শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
২০২৫ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন তিন বিজ্ঞানী এমওএফ (মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক) প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারে জন্ম নেওয়া ওমর এম. ইয়াগি, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।
ওমর ইয়াগির জন্ম ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি পরিবারে জন্ম নেওয়া তিনি শৈশবে পানির তীব্র সংকট ও দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ওমর ধীরে ধীরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে পিএইচডি অর্জন করেন।
তিনি কেবল গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানেও মনোনিবেশ করেছিলেন। বিশেষত বায়ুমণ্ডল থেকে পানি আহরণ ও পানিসংকট নিরসনে তার উদ্ভাবিত নতুন কাঠামো বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনে সক্ষম।
ওমর ইয়াগির এই গবেষণা পরিবেশ, টেকসই উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। ২০২১ সালে সৌদি আরব তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দিয়েছে।
এ বছর তার সঙ্গে নোবেল পেয়েছেন জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুসুমু কিতাগাওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড রবসন। তারা যৌথভাবে এমওএফ প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে পদার্থ রসায়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন।
নোবেল কমিটি জানায়, এই উদ্ভাবন গ্যাস সংরক্ষণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, পানি উৎপাদন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দরিদ্র ফিলিস্তিনি পরিবার থেকে বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক হিসেবে ওমর ইয়াগির জীবন তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।